আল্লাহ ও তাঁর নাম ও গুণাবলীর মধ্যে বেঁচে থাকা 1

আল্লাহ ও তাঁর নাম ও গুণাবলীর মধ্যে বেঁচে থাকা  1

আল্লাহ অতি দয়ালু এবং অপরিসীম মেহেরবান।

ক. নিশ্চয় তিনি আল্লাহ:

আর-রহমান, আর-রহিম, আল-বার, আল-কারিম, আল-জাওয়াদ, আর-রউফ, আল-ওয়াহহাব,:- এই সমস্ত গুণবাচক নামের অর্থ কাছাকাছি। আর এসবগুলোই আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর ব্যাপক দয়া ও অনুগ্রহকে প্রমাণ করে, যা সকল সৃষ্টিজগতকে শামিল করে। তম্মধ্য হতে বিশেষ অনুগ্রহ ও স্পেশাল অংশটি তিনি নির্ধারিত করে রেখেছেন তাঁর ঈমানদার বান্দাদের জন্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {(আমার রহমত (সাধারণ ভাবে) সকল বস্তুর উপর পরিব্যাপ্ত। অত:পর (কেয়ামতের দিন) তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা তাকওয়া অর্জন করে।} [সূরা: আল আ'রাফ, আয়াত: ১৫৬] সকল নেয়ামত, দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যান ও অনুগ্রহই আল্লাহর রহমত, করুণা ও অস্তিত্বের নিদর্শন এবং দয়া ও বদান্যতার নিদর্শন।

আল্লাহ তিনি অতি দয়ালু অপরিসীম মেহেরবান...

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, অতি দয়ালু, অপরিসীম মেহেরবান...

আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্য রহমত গুণকে পছন্দ করেছেন। তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের উপর প্রাধান্য লাভ করেছে। তাঁর রহমত সব কিছুকে বেষ্টন করে নিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।}
[সূরা: আল-আরাফ, আয়াত: ৫৬]

একজন মহিলা তার শিশুকে যখন দুধ পান করাচ্ছিলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: আমাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়ালু হলেন আমাদের মায়েরা।

«তোমরা কি মনে করো, এ ভদ্রমহিলা তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে? (সাহাবীরা বললেন) আমরা উত্তরে বললাম, তার দ্বারা এটা অসম্ভব। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর শপথ, এই মহিলা তার সন্তানের প্রতি যতটুকু স্নেহশীল ও দয়ালু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি তার চেয়েও বেশী দয়াবান।» (- বোখারী।)

আল্লাহ অতি দয়ালু এবং অপরিসীম মেহেরবান।

তিনি সমস্ত সৃষ্টির উপর সাধারণ রহমত করেন। কিন্তু বিশেষ রহমত তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।}
[সূরা: আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩]

আল্লাহ অতি দয়ালু।

তাঁর রহমতের মধ্যে একটি হলো: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জগতবাসীর জন্য রহমত এবং পথ প্রদর্শক রূপে প্রেরণ করেছেন। আর তাঁকে তাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সংরক্ষণকারী রূপে আবির্ভাব ঘটিয়েছেন।

আল্লাহ অতি দয়ালু।

আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কেউ তাঁর রহমতকে বাধাদান করার ক্ষমতা রাখে না। আর তিনি ব্যতীত কেউ রহমত অবতীর্ণও করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আল্লাহ মানুষের জন্য অনুগ্রহের মধ্য থেকে যা খুলে দেন, তা ফেরাবার কেউ নেই এবং তিনি যা বারণ করেন, তা কেউ প্রেরণ করতে পারে না তিনি ব্যতীত। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।}
[সূরা: ফাতির, আয়াত: ২]

আল্লাহ অতি দয়ালু এবং অপরিসীম মেহেরবান।


আল্লাহ তিনি দাতা ও দানশীল।

নিশ্চয় আল্লাহ তিনি দানশীল ও দাতা।

হে নেয়ামতদানকারী! হে আশা পূরণকারী!! হে দয়াময়!!!

আমাকে আপনার সন্তুষ্টি দান করুন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে সৌভাগ্য ও করুণায় সিক্ত করুন।

আমাদের উপর অনুগ্রহ ও বদান্যতা দান করুন। কেননা আপনি অনুগ্রহ, বদান্যতা ও সম্মানের অধিকারী:{এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।}
[সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ৮।]

«নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মহৎ, তিনি মহত্ত্ব ও উন্নত চরিত্র পছন্দ করেন এবং মন্দ ও নিকৃষ্ট চরিত্র অপছন্দ করেন।» (-তিরমিযী।)

আল্লাহ তা'আলা মহা দানশীল।

তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দান করেন, যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন।

আল্লাহ তা'আলা দানশীল।

তাঁর দানের কোন সীমা নেই এবং তাঁর অনুগ্রহ প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো নেই। তিনি যখন কোন বস্তু কে লক্ষ্য করে বলেন: {'হয়ে যাও' তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।}
[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১১৭।]

আল্লাহ তা'আলা মহা দানশীল।

তিনি বাহ্যিক এবং আধ্যাত্মিক রিযিক দান করেন, এবং এর দ্বারা তাঁর অনুগ্রহে নব্যতা সৃষ্টি করেন।

তম্মধ্য হতে একটি হলো, আল্লাহ তাঁর বান্দার অন্তরে কল্যাণমুখী ও উপকারী বিষয় উম্মুক্ত করে দেন। তাকে প্রজ্ঞা, সঠিক পথ প্রদর্শন, তাওফীক ও দুয়া কবুলের সৌভাগ্য দিয়ে থাকেন। এগুলো এবং এছাড়া এজাতীয় আরো যা আছে সবই আধ্যাত্মিক রিযিকের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি অনেক মানুষকে দান করেছেন।

আল্লাহ তা'আলা মহা দানশীল।

তিনি দান করেন, দান থেকে বিরত থাকেন, ঊর্ধে উঠিয়ে থাকেন, নিন্মগামী করেন, সংযু্‌ক্ত করেন, বিচ্ছিন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি সর্ব বিষয়ের উপর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাবান।

আল্লাহ! নিশ্চয় তিনি দানশীল ও দাতা।


তিনি অসীম-মহা প্রশস্ত।

নিশ্চয় আল্লাহ তিনি অসীম-মহা প্রশস্ত।{নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ। [সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১১৫]

তিনি সর্বব্যাপী।

তিনি এমন দাতা, যেকোন প্রার্থিত বিষয়ই তাঁর ব্যাপ্তির অধীনে।

তিনি অসীম।

তাঁর গুণাবলীর মধ্যে তিনি পরিপূর্ণ। তাঁর নামসমূহে তিনি মহান। তাঁর প্রশংসা এত অধিক যা গণনায় শেষ হবে না। তিনি দয়া, বদান্যতা, অনুগ্রহ, রাজত্ব, স্বত্ত্বাধিকার এবং বড়ত্বে মহা প্রশস্ত ও অসীম।

তিনি পরিব্যাপ্তকারী।

তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে দান, পর্যাপ্ততা, জ্ঞান, আয়ত্ব, সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পরিব্যাপ্ত করেছেন।

তিনি সর্বব্যাপী।

আল-ওয়াসী এমন সত্তা যার শ্রবণশক্তি সর্বব্যাপী তথা সবকিছুকেই শামিল করে এবং তাঁর নিকট কোন ভাষা দুর্বোধ্য কিংবা ভাষা সমূহ তার কাছে মিশে একাকার হয়ে যায় না।

তিনি অসীম।

তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য তাঁর মনোনীত ধর্ম ও ইবাদাতকে সহজ করে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য দ্বীনকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন।

নিশ্চয় আল্লাহ অসীম।


আল্লাহ স্নেহশীল।

নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহ, তিনি স্নেহশীল। {তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়।}[সূরা: বুরুজ, আয়াত: ১৪]

আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে স্নেহশীল, তিনি তাদের স্নেহ করেন, নিকটবর্তী করেন। তিনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হন এবং তাদেরকেও তাঁর প্রতি সন্তষ্ট করেন। {যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে।}
[সূরা: মায়িদাহ, আয়াত: ৫৪]

আল্লাহ তাদের প্রতি মানুষের মনে ভালবাসা সৃষ্টি করেন, অতপর মানুষ তাদেরকে ভালবাসতে শুরু করে। মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়।

তিনি প্রেমময়।

তিনি বান্দার নিকটবর্তী, স্নেহশীল ও বান্দার কল্যাণের ব্যাপারে তিনি মমতাময়ী।

তিনি স্নেহশীল।

তাঁর বান্দারা তাঁকে ভালোবাসে এবং তাঁর সাক্ষাতের ব্যাপারে সর্বদা আগ্রহী থাকে। হাদীসে এসেছে: «যে আল্লাহর সাক্ষাৎপ্রার্থী, আল্লাহ তা'আলাও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন।» (-বোখারী।)

তিনি স্নেহশীল।

তিনি আপনার অন্তরকে ঘৃণা ও ক্রোধ থেকে পরিশুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্নেহ ভালবাসার পানি দ্বারা বিদ্বেষের ময়লা ধৌত করার আদেশ করেছেন এবং হৃদ্যতা ও বন্ধুত্বের বরফ দ্বারা হিংসার আগুনকে নিভিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ-স্নেহশীল।

আল ওয়াদুদ এমন সত্তা যিনি তাঁর নবী রাসূলদেরকে এবং তাদের অনুসারীদের ভালবাসেন এবং তারাও আল্লাহ তা'আলাকে ভালোবাসেন। তিনি তাদের নিকট সর্বাধিক প্রিয়। আল্লাহপ্রেমে তাদের অন্তর পরিপূর্ণ। তাদের জিহ্বা তাঁর প্রশংসায় অবিচল থাকে এবং তাদের তন-মন সর্বদিক থেকে তাঁর প্রেম, ভালবাসা ও নিষ্ঠায় তারা মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

আল্লাহ, তিনি চিরঞ্জীব, শাশ্বত।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, চিরঞ্জীব, চিরন্তন। {আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।}[সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ২]

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, সবকিছুর ধারক। {আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।}[সূরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ২]

তিনি চিরঞ্জীব।

তিনি চিরস্থায়ী জীবনের অধিকারী, সুতরাং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি ব্যতীত সব কিছুই তাঁর নিকট মুখাপেক্ষী। তাঁর পবিত্র সত্তা ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংসশীল।

তিনি অবিনশ্বর।

তিনি নিজে নিজেই প্রতিষ্ঠিত। তিনি কোন বস্তুর মুখাপেক্ষী নন।

তিনি সব কিছুর ধারক।।

তিনি প্রতিটি মানুষের জীবনাচারণ ধারণ করে রাখেন। তিনি তাদের কর্ম, অবস্থা, উক্তি, নেক আমল এবং বদ আমলসমূহের সংরক্ষণকারী এবং আখেরাতে এর ভিত্তিতে তাদের প্রতিদান দান করবেন।

তিনি সব কিছুর ধারক।

তিনি তাঁর বান্দাদের কর্মের হিসাবরক্ষক।

তিনি সব কিছুর ধারক।।

তিনি তাঁর সৃষ্টির জীবন, রিযিক, তাদের অবস্থান পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্বের অধিকারী।

তিনি অনন্ত, অবিনশ্বর।

তিনি চিরস্থায়ী, তাঁর কোন শেষ নেই। তিনি সুমহান মর্যাদার অধিকারী এবং মহা পবিত্র।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ! যিনি চিরস্থায়ী , চিরঞ্জীব।

তিনি চিরঞ্জীব। তিনি স্বভাবগতভাবে সকল উত্তম গুণাবলীর অধিকারী। তিনি অবিনশ্বর। তিনি পরাক্রমশালী আল্লাহ হিসেবে সকল গুণাবলীর অধিকারী।

আল্লাহ প্রতাপশালী

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, সর্বোচ্চ, সুমহান ও প্রচণ্ড প্রতাপশালী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ম্যশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা'আলা তা থেকে পবিত্র।}[সূরা: হাশর, আয়াত: ২৩]

তিনি প্রতাপশালী।

তিনি ভগ্ন হৃদয় মেরামতকারী, তিনি পরাভূত মানুষের সাহায্যকারী, অভাবগ্রস্তদের অভাব মোচনকারী, পদস্খলিতদের স্খলন মোচনকারী, গোনাহগারদের গুনাহসমূহ মার্জনাকারী, শাস্তিপ্রাপ্তদের মুক্তদাতা, তাঁর ভালোবাসা পোষণকারীদের অন্তরে প্রশান্তিদানকারী।

তিনি প্রতাপশালী।

যিনি চির সমুন্নত এবং তাঁর মহান নেয়ামত পুরো সৃষ্টিজগতে বিস্তৃত।

তিনি প্রতাপশালী।

তিনি ঐ সত্তা প্রত্যেক বস্তুই যার পরিচয় জানে। প্রতিটি বস্তু তাঁর অনুগত এবং কোন কিছু তাকে অন্য কিছু থেকে বিস্মৃত করতে পারে না।

তিনি প্রতাপশালী।

তিনি প্রবল প্রতাপশালী, তিনি সমস্ত রাজ্য ও রাজত্বের একচ্ছত্র অধিপতি, তিনি সম্মানিত এবং মহান।

তিনি প্রতাপশালী।

তাঁর সম্মুখে বহু অহংকারীও বিনয়াবনত হয়ে পড়েছে। তাঁর সম্মুখে বহু বড়ত্ব প্রদর্শণকারীর অহমিকা চূর্ণ হয়েছে। বড় বড় রাজা-বাদশা, এবং শৌর্যবীর্যের অধিকারী নেতাগণ, তাঁর সামনে তুচ্ছ প্রমাণিত হয়েছে। অবাধ্য-অপরাধীরা তাঁর সামনে পদানত ও বিচূর্ণ হয়েছে।

নিশ্চয় তিনিই আল্লাহ, যিনি প্রচণ্ড প্রতাপশালী।

আল্লাহর গুনবাচক নাম 'আল-জাব্বার' বহুমুখী অর্থবোধক শব্দ। এর অর্থ একাধারে সুউচ্চ, সমুন্নত, মহাপরাক্রমশালী ও অতিদয়ালু, ভগ্ন হৃদয় ও অক্ষম দুর্বলদের অন্তরসমূহে প্রশান্তিদানকারী ও জোড়া প্রদানকারী এবং তাঁর কাছে যারা আশ্রয় চেয়েছে এবং তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করেছে, তাদের প্রতি রহমকারী।

তিনি অতিশয় সুন্দর

নিশ্চয় সুমহান আল্লাহ অতিশয় সুন্দর।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার মহিমান্বিত সত্তাকে অবলোকনের স্বাদ আস্বাদনের প্রার্থনা করছি এবং আপনার স্বাক্ষাতের জন্য ব্যাকুলতা প্রার্থনা করছি।

তিনি অতিশয় সুন্দর।

তাঁর গুণাবলী ও নামসমূহ সর্বোৎকৃষ্ট এবং তাঁর গুণাবলী পরিপূর্ণ।

তিনি অতিশয় সুন্দর।

পূর্ণতর নামসমূহের সৌন্দর্য এবং পূর্ণতর গুণাবলীর সৌন্দর্য ও সাধারণ পূর্ণতার সৌন্দর্যের অধিকারী তিনি। {আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম।}
[সূরা: আনআ’ম, আয়াত: ১১৫]

তিনি ঐ সত্তা যিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন।

তিনি অতিশয় সুন্দর।

তাঁর সৃজিত বস্তুর সৌন্দর্য, তাঁর বড়ত্ব ও সৌন্দর্যের প্রমাণ। সুতরাং বিবেক সমূহ তাঁর সৌন্দর্য পরিবেষ্টন করতে পারবে না, এবং কোন বুঝ-শক্তি তাঁর গুন-বৈশিষ্ট্যের সীমানা আবিস্কার করতে পারবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: «'আমরা আপনার পরিপূর্ণ প্রশংসা করতে সক্ষম নই, যেমনটি আপনি নিজের সম্পর্কে করেছেন।» (-মুসলিম।)

তিনি অতিশয় সুন্দর।

তিনি তাঁর সৃষ্টিকে সৌন্দর্য দান করেছেন, এবং তাঁর ব্যাপারে তাদের সুন্দর ধারণা দিয়েছেন।

হে সুন্দরতম! আপনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। আপনি ঈমানের দ্বারা আমাদের অন্তরসমূহকে সুশোভিত করে দিন এবং আমাদের আখলাককে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিন। আমাদের বাহিরকেও করে দিন সৌন্দর্যময়।

নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় সুন্দর।


আল্লাহ, তিনি সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞাণী, পরিবেষ্টনকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ- যিনি সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞাণী, পরিবেষ্টনকারী।

সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞাণী, পরিবেষ্টনকারী।

তিনি এমন সত্তা যার জ্ঞান পরিবেষ্টন করে নিয়েছে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সবকিছুকে; গোপন ও প্রকাশ্যকে; সম্ভব, অসম্ভব এবং অপরিহার্য বিষয়াদীকে; ঊর্ধজগত ও নিন্মজগতকে; অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতকে। সুতরাং কোন বস্তুই তাঁর নিকট গোপন নেই।

তিনি সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।}[ সূরা: লুকমান, আয়াত: ৩৪]

আল্লাহ সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞাণী, পরিবেষ্টনকারী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তিনি তা জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা যা গোপনে কর এবং যা প্রকাশ্যে কর। আল্লাহ অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।}[সূরা: তাগাবুন, আয়াত: ৪]

সুতরাং তিনি সব কিছু জানেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন, এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।}[সূরা: তালাক, আয়াত: ১২]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: {এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।}[সূরা: তালাক, আয়াত: ১২]

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ! যিনি সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞাণী, পরিবেষ্টনকারী।


আল্লাহ নিকটবর্তী।

নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিকটবর্তী।

হে ঐ সত্তা! যিনি তাকে আহবানকারীর নিকটবর্তী। হে ঐ সত্তা! যিনি তাঁর নিকট প্রত্যাশী ব্যক্তির নিকটবর্তী।

হে ঐ সত্তা! যিনি তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীর নিকটবর্তী। হে ঐ সত্তা! যিনি আমাদের নিকটবর্তী। হে ঐ সত্তা! যিনি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের (সুষুম্নার) চেয়েও নিকটবর্তী।

হে নিকটবর্তী সত্তা! আপনার কালামের মাধ্যমে ও আপনার বন্ধুত্বের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুত: আমি রয়েছি সন্নিকটে} [সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৮৬]

তিনি অতি নিকটবর্তী

তিনি তাঁর ইলম ও অবগতির কারণে মহাউচ্চতার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী।

তিনি অতি নিকটবর্তী,

ঐ ব্যক্তির, যে তাঁকে ডাকে। তিনি দান করেন ও অনুগ্রহ করেন। উঁচু করেন, প্রকাশ করেন এবং তিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন।

তিনি অতি নিকটবর্তী,

ঐ ব্যক্তির, যে তাঁর প্রতি ধাবিত হয়েছে এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তিনি গোনাহ মার্জনা করেন এবং তওবা কবুল করেন।

তিনি অতি নিকটবর্তী:

তিনি এমন বিষয় কবুল করেন যার দ্বারা বান্দা তাঁর নৈকট্য অর্জন করে। বান্দা তাঁর যতখানি নিকটবর্তী হয়, তিনি তার ততখানি নিকটবর্তী হন।

তিনি অতি নিকটবর্তী:

বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তিনি ইলম ও আয়ত্ব দ্বারা সকলকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়।

তিনি অতি নিকটবর্তী,

তাঁর সাহায্য-অনুগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সমর্থনের দিক থেকে। আল্লাহর এ ধরণের নৈকট্য শুধু তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য।

তিনি অতি নিকটবর্তী,

বান্দাগণ তাদের সকল আশা-আকাঙ্খা পূরণের জন্য আল্লাহর প্রতি ধাবিত হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি} [সূরা: আল ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৮৫]

তিনি অতি নিকটবর্তী,

আত্মাসমূহ তাঁর নৈকট্যের অনুভূতিতে আপ্লুত হয় এবং তাঁর স্মরণে উৎফুল্ল হয়।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ অতি নিকটবর্তী।

'আলক্বারীব' ঐ সত্তা যিনি তাঁর জ্ঞান, পরিবেষ্টন, পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষকরণের মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তির নিকটবর্তী।

আল্লাহ দোয়া কবুলকারী।

নিশ্চয় মহান আল্লাহ দোয়া কবুলকারী, আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।}
[ সূরা: হুদ, আয়াত: ৬১]

তিনি দোয়া কবুলকারী,

বান্দা যখন আল্লাহর দারস্থ হয় এবং তাঁর কাছে বৈধ প্রার্থনা পেশ করে তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। আর তিনিই বান্দাকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোয়া কবুলের ওয়াদা করেছেন।

তিনি দোয়া কবুলকারী।

জেলখানায় বন্দী মুক্তির প্রত্যাশায়, সমুদ্রে নিমজ্জিত ব্যক্তি পরিত্রাণের আশায়, দারিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত ব্যক্তি তার দারিদ্র মুক্তির আশায়, এতিম তার অসহায়ত্ব লাঘবের জন্য, অসুস্থ তার অসুস্থতা দূরের আশায়, বন্ধ্যা তার বন্ধ্যাত্ব পরিসমাপ্তির তরে তাঁর প্রতি আকুতি জানায়। অত:পর তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন। মানুষকে তার প্রার্থিত বস্তু দান করেন এবং সুখী-সমৃদ্ধশালী করেন।

আল্লাহর গুনবাচক নাম 'আল-মুজিব' বলতে উদ্দেশ্য হলো, ঐ সত্তা যিনি যেকোন অবস্থায় যেকোন স্থানে প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন।

তিনি দোয়া কবুলকারী।

তিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

{বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন।}
[সূরা: আন-নামল, আয়াত: ৬২]

তাঁর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে যে তাঁকে ডাকে এবং তাঁর নিকট মিনতি করে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। সুতরাং যে তাঁকে বন্দিদশা থেকে ডাকে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। যে তাঁকে সমুদ্রের মধ্য থেকে তাঁর কাছে মিনতি করে তাকে তিনি মুক্তি দান করেন। যে তার দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে রিযিক প্রার্থনা করে তাকে তিনি সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা দান করেন। কতো এতীম স্বীয় তত্ত্বাবধানের জন্য তাঁকে ডেকেছে, তিনি তার ডাকে সাড়া দিয়ে অভিভাবকের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাকে বড় করে তুলেছেন। বহু অসুস্থ ব্যক্তি তাঁর কাছে সুস্থতার আশা ব্যক্ত করেছে, অতঃপর তিনি তাকে সুস্থতা দান করেছেন। এমন অনেক বন্ধ্যা মহিলা আছে যারা অনুনয় বিনয় করে বন্ধাত্য ঘোছানোর প্রার্থনা করেছেন, তিনি তাকে সন্তান দান করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন।

নিশ্চয় মহান আল্লাহ ডাকে সাড়া দান করেন।


আল্লাহ আলোকময় সত্তা।

নিশ্চয় আল্লাহ আলোকময় সত্তা। {আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি}[সূরা: আন-নূর, আয়াত: ৩৫]

তিনি আলো।

তিনি ঐ সত্তা যিনি তাঁর পরিচয় প্রাপ্তদের অন্তরকে নূরান্বিত করেছেন এবং পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের আত্মাকে আলোকিত করেছেন।

তিনি আলো।

তিনি তাঁর নূর দ্বারা অন্ধকার দূরীভূত করেছেন ও নভোমণ্ডল-ভূমণ্ডলকে আলোকিত করেছেন। তাঁকে অন্বেষণকারীদের পথ ও অন্তরকে আলোকজ্জ্বল করেছেন।

আল্লাহ, তিনি আলোকময়। তাঁর পর্দা হলো নূরের। যদি তা উন্মোচন করেন, তবে দৃষ্টির সীমার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার সবকিছুকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিবে।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ- আলোকময় সত্তা।


আল্লাহ, তিনি প্রজ্ঞাবান।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, তিনি প্রজ্ঞাবান। {আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?}
[সূরা: আত-তীন, আয়াত: ৮।]

তিনি প্রজ্ঞাবান।

হাকিম ঐ সত্তা যিনি সব কিছুর জ্ঞান রাখেন এবং তা আয়ত্ত করেন। তিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যথাস্থানে স্থাপন করেন।

তিনি প্রজ্ঞাবান।

শরীয়ত এবং তাঁর সৃষ্ট প্রকৃতি, প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই বিধিবদ্ধ ও প্রচলিত হয়েছে। সুতরাং যেকোন ব্যাপারে তাঁর বিধান প্রবর্তন প্রাজ্ঞতার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। সেসবে থাকে গুপ্ত রহস্য এবং ইহ ও পরকালীন উপকারিতা।

তিনি প্রজ্ঞাবান।

তাঁর ফায়সালা ও ভাগ্যলিখনের বেলায় প্রজ্ঞাবান। দরিদ্রকে দরিদ্র করার মাঝে, রুগ্নের রোগাক্রান্তের মধ্যে, দূর্বলের দূর্বলতায়, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির রিক্ততা ও অনটনের ক্ষেত্রেও তিনি প্রজ্ঞাবান, এসবের পিছনেও কোন না কোন কল্যান ও তাৎপর্য নিহিত আছে। তাঁর কথা, কর্ম ও পরিকল্পনা কোন প্রকার ত্রুটি কিংবা স্খলনমুক্ত। মহান আল্লাহই কেবল সর্বোচ্চ প্রজ্ঞার অধিকারী।

তিনি প্রজ্ঞাবান:

যিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাৎপর্য, প্রাজ্ঞতা, জ্ঞানগর্বতা এবং ধীরস্থিরতা এবং প্রত্যেক বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করার দীক্ষা দেন।

আল্লাহ তিনি আহকামুল হাকিমীন। সৃষ্টির কোন কিছুই তাঁর অনুমতি ব্যতীত সংঘটিত হয় না। হালাল কিংবা হারাম নির্ধারণ করার অধিকার কেবল তাঁরই । তিনি যা বিধিবদ্ধ করেছেন, সেটাই তাঁর নির্দেশ। আর যেসব বিষয়ে তিনি আদেশ-নিষেধ জারি করেছেন, সেগুলোই হলো তাঁর দ্বীন। তাঁর নির্দেশ পেছনে ঠেলে দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই এবং তাঁর শক্তি ও ফয়সালার প্রতিহত করারও কেউ নেই।

তিনি প্রজ্ঞাবান।

তিনি কারো উপর জুলুম করেন না। তিনি তাঁর আদেশ প্রদানে, নিষেধ করনে এবং সংবাদ প্রদানে ইনসাফগার।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ।

হাকীম ঐ সত্তা যার সৃষ্টি ও নিদর্শনে রয়েছে মহা বিচক্ষণতা। কোন কিছুই তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি এবং অহেতুক কোন বিষয়ের প্রবর্তন করেননি। হাকীম ঐ সত্তা শুরু এবং শেষ যার হুকুমের অধীন।

আল্লাহ তা'আলা মালিক, বাদশাহ, একচ্ছত্র অধিপতি।

একচ্ছত্র অধিপতি ঐ সত্তা যিনি সমস্ত রাজত্বের একক অধিকারী। সুতরাং তিনি রাজাধিরাজের বিশেষণের অধিকারী। আর এটি বড়ত্ব, প্রভাবশালীত্ব প্রকাশক একটি গুণ। তিনি এমন সত্তা যার সৃষ্টি করা এবং নির্দেশ জারি ও প্রতিদান দেয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার রয়েছে। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল তাঁরই, সব কিছুই তাঁর বান্দা ও মালিকানাধীন, তাঁরই অনুগত।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, একচ্ছত্র অধিপতি। {তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র}[সূরা: আল-হাশর, আয়াত: ২৩]

তিনি মালিক (অধিপতি)।

তিনি বড় ও মহান। বান্দার কর্মসমূহ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। সুতরাং সমগ্র সৃষ্টি তাঁর দাস ও অনুগত। তিনি তাদের অধিপতি ও মালিক।

তাঁর জন্যই সমস্ত রাজত্ব। এমন কোন রাজা বা নেতা নেই যে তাঁর অধীনে নয়। আসমান ও জমিনে এমন কোন কল্যাণ নেই যা তাঁর দান ও অনুগ্রহ নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর|}[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৫]

তিনি মালিক (অধিপতি)।

অগণিত তাঁর দান, বান্দাদের প্রতি অঢেল দানের কারণে তাঁর রাজত্বে সামান্যতম ঘাটতি হয় না এবং কোন কাজ তাঁকে অপর কোন কাজ থেকে বিরত কিংবা বিস্মৃত রাখতে পারে না। সহীহ হাদীসে কুদসীতে আছে: «যদি তোমাদের পূর্বের-পরের, মানুষ ও জিনদের সকলে একটি ভূমিতে দাড়িয়ে আমার কাছে সকলের আর্জি পেশ করতে থাকে এবং আমি একে একে সকলের চাওয়া পূরণ করি, তবে সমুদ্রের মাঝে ডুবানো সুঁইয়ের মাথায় আসা পানি সমুদ্রের পানিকে যতটুকু কমাতে সক্ষম হবে, আমার সমৃদ্ধিতে ততটুকুই কেবল কমবে।» (- মুসলিম শরিফ।)

তিনি মালিক (অধিপতি)।

তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন। আল্লাহ বলেন: {বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্ব ভম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর, এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও, এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর, আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।}[সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ২৬]

তিনি মালিক (অধিপতি)।

তিনি তাঁর সৃষ্টির একচ্ছত্র অধিপতি। ইহ ও পরকালের কর্মপরিচালনাকারী। অতএব সকলকেই তাঁর প্রতি অনুরক্ত হতে হবে। তাঁর কাছেই আশ্রয় গ্রহণ ও ফরিয়াদ করতে হবে। দোয়া, কাকুতি-মিনতি, অনুনয়-বিনয় করে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করতে হবে।

তিনি আল্লাহ, তিনিই বাদশা, সব কিছুর অধিকারী, একচ্ছত্র অধিপতি।


মহান আল্লাহ পবিত্র।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, মহা পবিত্র।

স্বীয় মহিমায় তিনি পূত-পবিত্র। তাঁর প্রশংসা সুউচ্চ। তাঁর নেয়ামতরাজি মহান। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি।}
[সূরা: আল-হাশর, আয়াত: ২৩]

তিনি মহা পবিত্র ও নিষ্কলুষ। আত্মা ও ফেরেশতাগণের প্রতিপালক। সুতরাং নিষ্কলুষ অধিপতি পবিত্রতম সত্তা।

তিনি শান্তি দাতা, পবিত্র। তিনি মহান। সর্বপ্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত। সৃষ্টির কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়। তিনি সমস্ত দোষ থেকে মুক্ত। সিফাতে কামালের ক্ষেত্রে কেউ তাঁর সমকক্ষ বা নিকটবর্তী নয়।

নিশ্চয় তিনি মহাপবিত্র আল্লাহ।

তিনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও নিষ্কলুষ। তিনি এমন গুণ থেকে পবিত্র যা তাঁর সাথে সামঞ্জস্য নয়। সর্বোপরি তিনি মহিয়ান।

নিশ্চয় তিনি মহাপবিত্র আল্লাহ।

তিনি সৌন্দর্য, বড়ত্ব এবং পরিপূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। তিনি সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তাঁর পরিপূর্ণতার কোন উপমা নেই। তাঁর নাম ও গুণাবলীসমূহের সীমারেখায় কেউ পৌঁছতে পারবে না।

নিশ্চয় তিনি মহাপবিত্র আল্লাহ।

'কুদ্দুস' এমন সত্তা অন্তর অকপটে যার পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং তাঁকে সব আরজি ও আশা পূরণের কেন্দ্র মনে করে। জিহ্ববা যার অনবরত পবিত্রতা বর্ণনা করে, আর তাই জিহ্ববা অনন্তর তাসবীহ পাঠ করে।

নিশ্চয় তিনি মহাপবিত্র আল্লাহ।

'কুদ্দুস' এমন সত্তা যিনি বরকত দানকারী এবং দাতা। মহত্ত্ব ও প্রশংসার অধিকারী। বরকত তাঁর কাছ থেকেই অবতীর্ণ হয়, বরকত তাঁর কাছেই লাভ করা যায়। তিনিই তাঁর বান্দাকে বরকত দান করেন। তাকে বরকতময় নেয়ামত ও পুরস্কারে ভূষিত করেন।

নিশ্চয় তিনি মহাপবিত্র আল্লাহ।


আল্লাহ-নিরাপত্তা বিধায়ক।

নিশ্চয় আল্লাহ নিরাপত্তা বিধায়ক।

আল্লাহ একমাত্র শান্তিদাতা, শান্তি তাঁর পক্ষ থেকেই আসে। আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্যেই বান্দার শান্তি নিহিত। তাঁর তাওফীক ছাড়া কারো মুক্তি মিলতে পারে না।

নিশ্চয় তিনি সকল দোষত্রুটি থেকে মুক্ত।

তিনি সর্ব প্রকার ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। তিনিই সৃষ্টজীবকে যাবতীয় বিপদ ও ক্ষতি থেকে রক্ষাকারী।

নিশ্চয় তিনি নিরাপত্তা বিধায়ক।

তাঁর যাবতীয় গুণাবলী সৃষ্টজীবের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে পবিত্র। সর্বপ্রকার অসম্পূর্ণতা অক্ষমতা থেকে নিরাপদ। তাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। তাঁর ন্যায়বিচার সর্বব্যাপী ও পূর্ণাঙ্গ। তাঁর মালিকানা পরিপূর্ণ ও নিরাপদ। তাঁর নির্দেশ ত্রুটিমুক্ত। তাঁর বিচার ত্রুটিহীন। তাঁর কর্ম নির্দোষ। শান্তিদাতা তিনিই। তাঁর থেকেই শান্তি আসে। তিনি সুউচ্চ; মহত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী।

আল্লাহ পাক উভয় জগতেই আপন বান্দাদের জন্য শান্তি নির্ধারণ করেছেন।{ইব্রাহীমের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।}
[সূরা: আস-সাফফাত, আয়াত: ১০৯।]

{মূসা এবং হারুনের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক}

[সূরা: আস-সাফফাত, আয়াত: ১২০।]

{প্রেরিত রাসূলদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক}

[সূরা: আস-সাফফাত, আয়াত: ১৮১]

অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেন: {(বলা হবে:) এগুলোতে (জান্নাতে) নিরাপত্তা ও শান্তি সহকারে প্রবেশ কর।}[সূরা: আলহিজ্‌র, আয়াত: ৪৬]

নিরাপত্তাদাতা।

অর্থাৎ তিনি এমন পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দান করবেন-যারপর কোন ভয় থাকবে না এবং এমন ব্যাপক ক্ষমা করবেন, যার পরে কোন শঙ্কা থাকবে না।

তিনিই শান্তিময়। তাঁর কাছ থেকেই শান্তি আসে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ শান্তিময়।


আল্লাহ সত্য।

নিশ্চয় আল্লাহ সত্য। {এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য} [সূরা: হজ্ব, আয়াত: ৬]

আল্লাহ সত্য।

তাঁর সত্তা ও গুণাবলী সত্য। গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যসমূহে তিনি পূর্ণতম। তাঁর গুনাবলী তাঁর সত্তার অপরিহার্য বিষয়। আর কোন বস্তুর অস্তিত্ব তাঁর অস্তিত্ব ছাড়া কল্পনাতীত। মহত্ব, সৌন্দর্য ও পূর্ণতার গুণে তিনি বিশেষায়িত ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তাঁর অস্তিত্ব ও গুণাবলী চিরন্তন।

আল্লাহ সত্য।

তাঁর কথা সত্য, তাঁর কর্ম সত্য, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হবে- সত্য, তাঁর রাসূলগণ সত্য, তাঁর কিতাবসমূহ সত্য, তাঁর দ্বীনই প্রকৃত দ্বীন, একমাত্র তিনিই ইবাদাতের হকদার, তাঁর ইবাদাতে কোন অংশিদার নেই-এটা সত্য। প্রত্যেক বস্তু তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করবে, এটাই চূড়ান্ত সত্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {এটা এ কারণেও যে, আল্লাহই সত্য; আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য এবং আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।}[সূরা: হজ্ব, আয়াত: ৬২]

নিশ্চয়ই আল্লাহ হক তথা সত্য।


নিশ্চয়ই আল্লাহ নিরাপত্তা দানকারী ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।

নিশ্চয়ই আল্লাহ নিরাপত্তা দানকারী ও রক্ষণাবেক্ষণকারী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ম্যশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’আলা তা থেকে পবিত্র।}
[সূরা: হাশ্‌র, আয়াত: ২৩]

আল্লাহ নিরাপত্তা বিধায়ক।

যিনি আপন বান্দাদের মাঝে শান্তি ছড়িয়ে দেন এবং সৃষ্টিজগতের মাঝে নিরাপত্তা বিধান করেন। আর ওহীর মাধ্যমে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন। {এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।}
[সূরা: কুরাইশ, আয়াত: ৪]

নিরাপত্তা বিধায়ক।

যিনি বিশ্বস্ত, পরিপূর্ণ রক্ষাণাবেক্ষণকারী, সৃষ্টিজীবের কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষকারী।

নিরাপত্তা বিধায়ক।

তিনি কারো পূণ্য হ্রাস করেন না। কাউকে প্রাপ্যের অতিরিক্ত শাস্তি দেন না। মর্যাদা ও সম্মানের প্রাপ্তির তিনিই অধিক হকদার। বান্দাকে কল্যাণ ও অনুগ্রহ দানের তিনিই অধিক যোগ্য।

তিনি রক্ষক।

তিনি নিজ বান্দাদের রক্ষাণাবেক্ষণ করেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। তাদের কাজ কর্ম ও অবস্থা অবলোকন করেন। তারা তাঁর পর্যবেক্ষণ ও ক্ষমতার বেষ্টনীর মাঝেই অবস্থান করে। সব কিছুই তাঁর জন্য সহজ। সব কিছুই তাঁর মুখাপেক্ষী। {কোন কিছুই তাঁর মত নয়। এবং তিনি সর্বদ্রষ্টা, সর্বশ্রোতা।}[সূরা: আশ-শুরা, আয়াত: ১১]

নিশ্চয় আল্লাহ নিরাপত্তা বিধায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক।

তিনি নিরাপত্তা বিধায়ক। পরিপূর্ণ মহত্ব ও সৌন্দর্য এবং পূর্ণতর গুণাবলী প্রসঙ্গে যিনি স্বয়ং নিজের প্রশংসা করেছেন এবং যিনি তাঁর রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কিতাবসমূহকে যাবতীয় নিদর্শন ও অকাট্য দলীল প্রমাণ দিয়ে নাযিল করেছেন। যথার্থ তদারককারী। যিনি সকল বিষয়ের গোপন রহস্য ও ভেদ সম্পর্কে জানেন। সব বিষয় যার জ্ঞানের আয়ত্বে রয়েছে।

আল্লাহ ক্ষমাশীল, মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাপরায়ণ।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাপরায়ণ। {নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী ক্ষমাশীল।}
[সূরা: হজ্ব, আয়াত: ৬০।]

আল্লাহ ক্ষমাশীল, মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাপরায়ণ।

তিনি সর্বদা বান্দাকে ক্ষমা করা ও মার্জনা করার বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত, পরম ক্ষমাশীল হিসেবে স্বীকৃত। প্রত্যেকে যেমনিভাবে আল্লাহর রহমত ও দয়ার মুখাপেক্ষী, তেমনি তাঁর ক্ষমা লাভেরও মুখাপেক্ষী।

হে ঐ সত্তা! যিনি বান্দাকে ক্ষমাপ্রাপ্তির শর্তপূরণ সাপেক্ষে মার্জনা ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আল্লাহ বলেন: {আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।}[সূরা: ত্বহা, আয়াত: ৮২]

হে পরম ক্ষমাশীল! আমাদেরকে খাঁটি তওবা করার তওফীক দান করুন। এমন তওবা যার দ্বারা আমরা যাবতীয় গুনাহ থেকে পরিপূর্ণরূপে বাঁচতে পারব। নিজেদের ভুলত্রুটি ও নাফরমানির উপর লজ্জিত হব এবং আপনার আনুগত্য করা ও আপনার নাফরমানি পরিত্যাগের উপর সংকল্পবদ্ধ হবো। আমাদের ক্ষমা করুন হে পরম ক্ষমাশীল!

হে আল্লাহ, আপনি পরম ক্ষমাশীল! আপনি ক্ষমাকে ভালবাসেন, সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জানিয়েছেন যে, আপনি পরম ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।}
[সূরা: আল-হিজ্‌র, আয়াত: ৪৯।]

সুতরাং হে পরম ক্ষমাশীল আমাদের উপর রহম করুন, আমাদের ক্ষমা করুন।

আল্লাহ ক্ষমাশীল, মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাপরায়ণ।


আল্লাহ তওবা কবুলকারী।

তিনি তওবা কবুলকারী। যিনি তওবাকারীর তওবা সর্বদা কবুল করেন। অনুতপ্ত ব্যক্তির পাপ মার্জনা করেন। যে কেউই আল্লাহর কাছে খাঁটি দিলে তওবা করে আল্লাহ তওবাকারীদের তওবা কবুল করেন। প্রথমত, তাদেরকে তওবার তৌফিক দেন এবং খাঁটি অন্তরে তওবার তৌফিক দেন। অত:পর তিনি তওবা কবুল করেন এবং তাদের পাপ মাফ করেন। সুতরাং তিনি ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, তওবা কবুলকারী।

{নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।}
[সূরা: আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৮।]

তিনি তওবা কবুলকারী।

যিনি পরম অনুগ্রহে আপন বান্দাদের জন্য তওবার বিধান রেখেছেন; বরং এর চেয়ে বড় কিছুরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটা হলো: তিনি গুনাহকে পূণ্যে পরিবর্তিত করার ওয়াদা করেছেন।

তিনি তওবার তৌফিক দানকারী।

তিনি বান্দাদের তওবার উপর অটল থাকার শক্তি দেন এবং কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেন।

তিনি তওবার তৌফিকদাতা।

যিনি বান্দাদের তওবার তৌফিক দান করেন, তওবার প্রতি উৎসাহিত করেন, তওবার দিকে ধাবিত করেন।

তিনি তওবা কবুলকারী।

যিনি বান্দাদের তওবা কবুল করেন, তওবার উপর অটল রাখেন, মর্যাদা বুলন্দ করেন, গুনাহ মার্জনা করেন। তিনি কতই না মহান!

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, তওবা কবুলকারী।


আল্লাহ এক ও একক।

নিশ্চয় আল্লাহ এক ও একক

হে একক সত্তার অধিকারী! একক নাম ও গুণাবলীর অধিকারী!

আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করি একনিষ্ঠতা, ভালবাসা ও আশার। হে একক! হে অমুখাপেক্ষী।

তিনি একক।

সত্তা, নামসমূহ ও গুণাবলীতে তিনি এক। তাঁর সমকক্ষ ও সাদৃশ্য কিছু নেই। তাঁর দৃষ্টান্ত ও উপমা নেই।{আপনি কি তাঁর সমনাম কাউকে জানেন?}[সূরা: মারইয়াম, আয়াত: ৬৫]

তিনি একক।

উপাস্য ও ইবাদাতযোগ্য প্রভুত্বে তিনি একক। একমাত্র তিনিই ইবাদাতের যোগ্য। কম বা বেশি সর্বপ্রকার ইবাদাত একমাত্র তাঁরই জন্য করা হবে।

তিনি একক।

যিনি ঈপ্সিত একক; উপাস্য, প্রতিপালক। অন্তরের অন্তস্থল তাঁর সাক্ষ্য দেয়। আর দৃষ্টিসমূহ গায়েবের মালিক সেই মহান আল্লাহর দিকেই চেয়ে থাকে।

তিনি এক, একক।

আল্লাহ এক, তাঁর কোন শরীক নেই’ একথার স্বীকৃতিদানের প্রকৃতি দিয়েই আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তিনি ছাড়া আর এমন কেউ নেই যার কাছে আশ্রয় নিলে বান্দা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়।

তিনি এক, অদ্বিতীয়। যিনি তাঁর সকল পূর্ণতাসহ একক। যার মধ্যে কোন অংশীদারের অংশীদারিত্ব নেই। বান্দার জন্য অবশ্যকর্তব্য হলো অন্তরে, মুখে ও কর্মে আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করা। আল্লাহর পূর্ণতা ও একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়া। সকল ইবাদাতের উপযুক্ত শুধু তাঁকেই মনে করা।

আল্লাহ স্বয়ংসমৃদ্ধ, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।

তিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ। যার কাছে সমস্ত সৃষ্টিজীব, তাদের সকল প্রয়োজনে এবং সর্বাবস্থায় প্রার্থনা করে। কেননা তিনিই আপন সত্তা, গুনাবলী ও নাম এবং কর্মে পূরিপূর্ণ ও স্বয়ংসমৃদ্ধ।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী}
[সূরা: আল-ইখলাস, আয়াত: ১- ২]

তিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ।

যিনি আপন নাম ও গুণসমূহে পরিপূর্ণ। সুতরাং কোন অসম্পূর্ণতা ও অক্ষমতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।

তিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ।

তিনি এমন ধনী, সকলেই যার মুখাপেক্ষী। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। {যিনি সবাইকে আহার্য দান করেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না।}
[সূরা: আল আন’আম, আয়াত: ১৪]

তিনি অমুখাপেক্ষী।

তিনি ব্যবস্থাপক, প্রতিপালক, কর্তৃত্বশীল অধিপতি।

তিনি অমুখাপেক্ষী।

অন্তরসমূহ যাবতীয় প্রয়োজনে তাঁর অভিমুখী হয়। তিনি তাদেরকে দান করেন। তিনি নিরাশ করেন না। মানুষ বিপদে-আপদে তাঁকে ডাকে। তিনি বিপদ দূর করেন এবং ডাকে সাড়া দেন। দিশাহীন লোকেরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে, তিনি তাদের দিশা দেন। ভীত লোকেরা তাঁর কাছে অনুনয় করে, তিনি তাদের প্রশান্ত ও নিরাপদ করেন। একত্ববাদে বিশ্বাসীরা তাঁর কাছে আশা ব্যক্ত করে, তিনি তাদের আশা পূরণ করেন। বিপদগ্রস্ত লোক তাঁর কাছে প্রার্থনা করে তিনি তাদের বিপদ থেকে মুক্তি দেন।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, অমুখাপেক্ষী।


আল্লাহ পরাক্রমশালী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, পরাক্রমশালী।{নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}[সূরা: আনফাল, আয়াত: ৬৭।]

আল্লাহ পরাক্রমশালী, মহা শক্তিধর, প্রাধান্য বিস্তারকারী।

কোন বলবানের বল যার কোন ক্ষতি করতে পারে না। কোন ক্ষমতাশালীর দাপট যাকে অক্ষম করতে পারে না। তিনি সুউচ্চ, সর্বজ্ঞ, তিনিই পরাক্রমশালী।

তিনি পরাক্রমশালী।

তাঁর মর্যাদা পরিপূর্ণ। সব কিছুই তাঁর সামনে তুচ্ছ ও নত। তাঁর সামনে সব শক্তিশালীই দুর্বল। তিনি ছাড়া সব কিছুই নগণ্য। সব সৃষ্টিজীবই হীন।

তিনি প্রতাপশালী।

তিনি যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দেন। যার থেকে ইচ্ছা ছিনিয়ে নেন। যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। কল্যাণ তাঁর হাতেই। মহান আল্লাহ বলেন: {সমস্ত সম্মান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।}[সূরা: ইউনুস, আয়াত: ৬৫]

সুতরাং গোত্রে বা বংশে কোন গৌরব নেই। সম্পদে বা উপকরণে কোন সম্মান নেই। সম্মান একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং তাঁর থেকেই সম্মান আসে।

তিনি পরাক্রমশালী।

সম্মান একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। সম্মান বৃদ্ধিও তাঁর অনুগ্রহেই হয়। তাই শুধু আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাওয়া উচিত। মর্যাদা পেতে চাইলে খাঁটি দিলে আল্লাহর প্রতিই মনোনিবেশ করা উচিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {শক্তি তো আল্লাহ তাঁর রাসুল ও মুমিনদেরই, কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।}
[সূরা: আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ৮।]

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, পরাক্রমশালী।

তিনি পরাক্রমশালী। গৌরব পুরোটাই যার, শক্তি ও দাপটের গৌরবের অধিকারী যিনি, তিনি পরাক্রমশালী। সৃষ্টির অন্য কারো জন্য এ গৌরব অর্জন অসম্ভব। তিনি বিদ্যমান সকল বস্তুকে বশে রাখেন আপন ক্ষমতাবলে। সৃষ্টিজীব তাঁর সামনে নতি স্বীকার করে। তাঁর বড়ত্বের সামনে অবনত হয়।

আল্লাহ অসীম ক্ষমতার অধিকারী, প্রতাপশালী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ অসীম ক্ষমতার অধিকারী, প্রতাপশালী।

মানব দানব সকলের উপর ক্ষমতাধর। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

{তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয় বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়, সর্বজ্ঞ।}
[সূরা: আল-আন’আম, আয়াত: ১৮।]

তিনি মহাপরাক্রান্ত।

আল্লাহদ্রোহী ও অহংকারীদের তিনি শ্রেষ্ঠতর প্রমাণ দিয়ে পরাভূত করেন। সুমহান গুণাবলী, সুন্দর নামসমূহ এবং প্রভুত্বে তাঁর একক অধিকারকে অকাট্য দলীল-প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি মহাপরাক্রান্ত।

অত্যাচারী, বিদ্রোহী ও অহংকারীদের পরাভূতকারী। তাঁর প্রতিপালক ও একমাত্র ইবাদাতের হকদার এবং সুন্দরতম নাম ও গুণাবলীর অধিকারী হওয়ার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি মহাপরাক্রান্ত।

তিনি অত্যাচারী, বিদ্রোহী ও অহংকারীদের পরাভূতকারী। তাদের ইচ্ছা না থাকা সত্বেও তাদেরকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করবেন, উপস্থিত হতে বাধ্য করবেন। {এবং লোকেরা পরাক্রমশালী এবং আল্লাহর সামনে পেশ হবে}
[সূরা: ইবরাহীম, আয়াত: ৪৮।]

তিনি মহাপরাক্রান্ত।

তাঁর ইচ্ছা অবধারীতভাবে বাস্তবায়িত হয়। যত বড়ই হোক না কেন, সৃষ্টজীবের কেউ তা ঠেকাতে পারে না। অভিনব ও তুলনাহীন সৃষ্টিকর্তা তিনি। সৃষ্টির ক্ষমতা যতদূরই পৌঁছুক না কেন, তাঁর সৃষ্টির দৃষ্টান্ত উপস্থাপনে অক্ষম। যতই সুন্দর ও চমৎকার বর্ণনায় পারদর্শী হোক না কেন, তাঁর সৃষ্টির অভিনবত্বের বর্ণনা দিতে সকল বাগ্মীগণ অক্ষম।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, সকলের উপর তিনি ক্ষমতাবান।


আল্লাহ রিযিকদাতা।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ রিযিকদাতা। {আল্লাহ তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত}
[সূরা যারিয়াত, আয়াত: ৫৮।]

তিনি রিযিকদাতা।

তাঁর হাতেই বান্দার জীবিকা ও রিযিক। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রশস্ত রিযিক দেন। যাকে চান সঙ্কীর্ণ করে দেন। তাঁর হাতেই সব কিছুর পরিচালনা এবং আসমান ও জমীনের ক্ষমতা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়।}[সূরা হুদ, আয়াত: ৬]

এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: {এমন অনেক জন্তু আছে, যারা তাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।}[সূরা: আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬০।]

আল্লাহ তা'আলা বলেন: {নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত,-সব কিছু দেখছেন।}
[সূরা: আল-ইসরা, আয়াত: ৩০।]

আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।}
[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২১২]

তিনি রিযিকদাতা।

সকল মানুষ অভাবী, তার ও তার রিযিকের মুখাপেক্ষী। আল্লাহ নেককার ও বদকার এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবাইকে রিযিক দেন।

তিনি রিযিকদাতা।

যে তাঁর প্রতি পরিচ্ছন্ন হ্রদয় ও পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে প্রার্থনায় অগ্রসর হয়, তিনি তাকে পরিপূর্ণ রিযিক ও অনুগ্রহ দান করেন। যে চায় তাকে তিনি জ্ঞান ও ঈমানের খোরাক দান করেন। যে প্রার্থনা করে তাকে তিনি হালাল রিযিক দান করেন। যা অন্তরের সততা ও ধর্মের নিষ্কলুষতা অর্জনে তাকে সাহায্য করে।

নিশ্চয় আল্লাহ রিযিকদাতা।


আল্লাহ সূক্ষ্ম।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ সূক্ষ্ম।{আমার পালনকর্তা যা চান, সম্পন্ন করেন}[সূরা: ইউসুফ, আয়াত: ১০০।]

তিনি সূক্ষ্মদর্শী।

যিনি দয়া, মমতা ও স্নেহবশত এক সৃষ্টজীবকে অন্য সৃষ্টজীবের অনুগত করে দেন।

তিনি সূক্ষ্মদর্শী।

যিনি অগণিত পূণ্য, অসংখ্য দান ও অনুগ্রহ প্রদানকারী।

তিনি সূক্ষ্মদর্শী।

আপন বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু।{নিশ্চয় আল্লাহ আপন বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু}
[সূরা: আশ-শুরা, আয়াত: ১৯।]

দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য যা কল্যাণকর বান্দাকে তা দান করেন এবং যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য অকল্যাণকর তা থেকে তাদেরকে দূরে রাখেন।

আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী।

কোন দৃষ্টি তাঁকে ধারণ করতে পারে না, কিন্তু সকল দৃষ্টি তাঁর আয়ত্তাধীন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, সুবিজ্ঞ।}[সূরা: আল-আন’আম, আয়াত: ১০৩]

তিনি সূক্ষ্মদর্শী।

তিনি বস্তু সমূহের গোপন রহস্য জানেন। যেকোন কাজের সূক্ষ্মতিসূক্ষ্ম বিষয়ও তাঁর আয়ত্বে রয়েছে। রাতে বা দিনে কোন সময়েই কোন জিনিস তাঁর অগোচরে নেই। বান্দাদের জন্য যা কিছু কল্যাণকর এবং এর মাঝে কোনটা ক্ষুদ্র কোনটা মহান তা তিনি জানেন। তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান।

তিনি সূক্ষ্মদর্শী।

তিনি যখন কোন ফয়সালা করেন তখন বান্দার প্রতি দয়াপরবশ থাকেন। ভাগ্যের লিখনের পর কষ্টে পতিত হলে তিনি সহায় হন। যখন সকল পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিপদে আপতিত হয়, তখন তিনি তাদের জন্য প্রশান্তির দুয়ার খুলে দেন। তাদের কঠিনতম সঙ্কটকেও তিনি সহজ করে দেন।

নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী।

তিনি সূক্ষ্মদর্শী। যাবতীয় গোপন ভেদ ও রহস্য তাঁর জ্ঞানের আওতাধীন। সকল গোপন বস্তু, অপ্রকাশ্য বিষয় ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে তিনি অবগত। যা উপকারী তা তিনি মুমিনদের কাছে পৌঁছে দেন এমন সুকৌশলে এবং এমন সব উপায়ে যা, তারা ধারণাই করতে পারে না।

আল্লাহ একমাত্র উন্মুক্তকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, তিনি একমাত্র উন্মুক্তকারী। {তিনি ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞ}[সূরা: সাবা, আয়াত: ২৬]

তিনি উন্মুক্তকারী।

তিনি আমাদের জন্য নিজ রহমত উন্মুক্ত করে দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আল্লাহ মানুষের জন্য অনুগ্রহের মধ্য থেকে যা খুলে দেন, তা ফেরাবার কেউ নেই।}[সূরা: ফাতির, আয়াত: ২]

তিনি উন্মুক্তকারী।

আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য তাঁর বরকত উন্মুক্ত করে দিন। আমাদের সবাইকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ দান করুন এবং তাঁর ক্ষমা ও দান বাড়িয়ে দিন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি হেদায়েত ও ঈমান দিয়ে বন্ধ হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করে দেন।

তিনি উন্মুক্তকারী।

তিনি উদারতভাবে রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করেন এবং নেয়ামতের অজস্র ধারা বইয়ে দেন। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোসমূহ মানুষের জন্য উন্মোচন করেন এবং এর দ্বারা অন্তরসমূহ অলঙ্কৃত করেন। হৃদয়সমূহের সামনে ঈমানের দ্বার খুলে দিয়ে তাদেরকে পথের দিশা দেন।

আল্লাহ উন্মুক্তকারী।

যিনি বান্দাদের পেরেশানী দূর করেন। সকল চিন্তা বিদূরিত করেন। বিপদ ও সঙ্কট মুক্ত করে দেন।

আল্লাহ উন্মুক্তকারী।

হাশরের ময়দানে যিনি বান্দাদের মাঝে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করবেন। তিনিই প্রশংসিত অভিভাবক।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, উন্মুক্তকারী।

আল্লাহ উন্মুক্তকারী। যিনি নিজ শরীয়তের বিধিবিধান, আপন তাকদীর এবং প্রতিদান এর বিধানাবলী দ্বারা বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করবেন। যিনি নিজ দয়ায় সত্যবাদীদের দৃষ্টি খুলে দেন। যেন তারা তাঁকে চিনে ভালবাসে ও তাঁর দিকে অনুতপ্ত মনে ধাবিত হয়। বান্দাদের জন্য আপন রহমত ও বৈচিত্রময় রিযিকের দ্বারসমূহ অবারিত করেন।

আল্লাহ অভাবমুক্ত, অভাবমোচনকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ অভাবমুক্ত, অভাবমোচনকারী।

তিনি অভাবমুক্ত।

যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। যার রয়েছে পরিপূর্ণ নিরঙ্কুশ অমুখাপেক্ষীতা, তাঁর যাবতীয় গুণ ও পূর্ণাঙ্গতায় কোন ধরনের ঘাটতি আসতে পারে না। অমুখাপেক্ষী হওয়া তাঁর জন্য অনিবার্য বিষয়। কারণ তাঁর অমুখাপেক্ষীতা তাঁর সত্তারই আবশ্যিক দাবি। তিনি সৃষ্টিকর্তা, শক্তিধর, রিযিকদাতা, অনুগ্রহকারী হওয়া অনিবার্য। সুতরাং তিনি কোন বিষয়ে কারও কাছে মুখাপেক্ষী নন। এক কথায় তিনি অভাবমুক্ত; তাঁর হাতেই আসমান জমীনের ভাণ্ডার। দুনিয়া ও আখেরাতের কোষাগার।

তিনি অভাবমুক্ত।

তিনি নিজ বান্দাদের থেকে অমুখাপেক্ষী, তাদের থেকে খাদ্য-পানীয় চান না। তিনি তাদরেকে এজন্য সৃষ্টি করেননি যে, তাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ঘটাবেন, শক্তি সঞ্চার করবেন বা নিঃসঙ্গতা দূর করবেন। কারণ, অভাব, দূর্বলতা কিংবা নি:সঙ্গতা- এসবের কোনটিই তাঁর মাঝে নেই। বরং সৃষ্টিজীব নিজেদের খাদ্য ও পানীয় তথা সকল বিষয়ে তাঁরই মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।} [সূরা: আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬- ৫৭।]

তিনি অভাবমুক্ত-স্বয়ংসমৃদ্ধ।

তিনি মানুষের দারিদ্রতা দূর করে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে তাঁর ভাণ্ডারে কখনো কোন ঘাটতি দেখা দেয় না। তাঁর বান্দাদের তিনি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হয় না। যেমন হাদীসে কুদসীতে এসেছে: «যদি তোমাদের পূর্বের-পরের, মানুষ ও জিনদের সকলে একটি ভূমিতে দাড়িয়ে আমার কাছে সকলের আর্জি পেশ করতে থাকে, এবং আমি একে একে সকলের চাওয়া পূরণ করি, তবে সমুদ্রের মাঝে ডুবানো সুঁইয়ের মাথায় আসা পানি সমুদ্রের পানিকে যতটুকু কমাতে সক্ষম হবে, আমার সমৃদ্ধিতে ততটুকুই কেবল কমবে।» (-মুসলিম )

তিনি অভাবমুক্ত।

তিনি তাঁর কতিপয় বান্দাকে হেদায়াত ও বিশুদ্ধ অন্তর দান করার মাধ্যমে সমৃদ্ধি দান করেন। যার ফলে তারা আল্লাহকে চিনতে পারে এবং তাঁকে ভালোবাসে। তাঁর মহত্ত্ব ও গৌরবময়তাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। তিনি তাদের এমন সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ করে দেন যা দুনিয়ার উৎকৃষ্টতা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম ও পূর্ণতম।

হে মহান সত্তা! দান যার ভাণ্ডারকে কমাতে পারে না। আপনার হালাল রিযিক দ্বারা সমৃদ্ধ করে আমাদেরকে হারাম থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন। কেননা নিশ্চয়ই আপনি অমুখাপেক্ষী, অভাবমোচনকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ সমৃদ্ধশালী ও সমৃদ্ধি দানকারী।


আল-মুক্বীত: আল্লাহ খাদ্যদাতা

আল্লাহ ভরণ-পোষণ দানকারী ও খাদ্যদাতা।
 
1924

আল্লাহ ভরণ-পোষণ দানকারী ও খাদ্যদাতা।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ একমাত্র ভরণ-পোষণ দানকারী ও খাদ্যদাতা। {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী}[সূরা: আন-নিসা, আয়াত: ৮৫]

ভরন-পোষণ দানকারী ও মহান খাদ্যদাতা।

যিনি সৃষ্টকুলকে আহার্য পৌঁছান। তাদের জীবনধারণের উপকরণ সৃষ্টি করেন। পিপাসা ও ক্ষুধা নিবারণ এবং জীবনকে সুখময় করার যাবতীয় মৌলিক উপাদান সৃষ্টি করেন।

আল্লাহ একমাত্র মহান খাদ্যদাতা।

যিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের বিচিত্র সম্ভার দিয়ে অন্তারাত্মাসমূহের খাদ্য যোগান। ফলে আত্মাসমূহ প্রাণশক্তি পায়, প্রফুল্ল হয়।

হে মহান সত্তা! যিনি সৃষ্টিকুলের প্রয়োজনীয় বিষয়াদির ব্যবস্থা করেন এবং তাদের জীবন-মরণের তত্ত্বাবধান করেন। আমরা আপনার কাছে আপনার আশ্রয় এবং ক্ষমা ও সুস্থতা কামনা করি। {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী}
[সূরা নিসা, আয়াত নং-৮৫]

মহান খাদ্যদাতা। যিনি সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর জন্য তার জীবনোপকরণ সর্বরাহ করেছেন এবং তাঁর সব সৃষ্টির কাছে রিযিক প্রেরণ করেন ও নিজ প্রজ্ঞা ও প্রশংসা দিয়ে যেভাবে চান তা বন্টন ও ব্যয় করেন।

Tags:

 

আল্লাহ হিসাবগ্রহণকারী, তিনি সকলের জন্য যথেষ্ট।

নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাবগ্রহণকারী, তিনি সকলের জন্য যথেষ্ট।

আল্লাহ সৃষ্টিজীবের হিসাবগ্রহণকারী, তিনি সর্ববিষয়ে তাদের জন্য যথেষ্ট। {আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন?}
[সূরা: আয-জুমার, আয়াত: ৩৬]

'আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।' আল্লাহর খলীল ইবরাহীম আ. যখন আগুনে নিক্ষিপ্ত হচ্ছিলেন তখন উক্ত বাণীটি তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়। ফলে আগুন তাঁর জন্য শান্তিদায়ক ঠাণ্ডা হয়ে যায়। নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমার প্রেক্ষাপটে সাহাবায়ে কেরামও এউক্তিটি করেছিলেন: {তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম।}[সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩]

একথা শুনে তারা বলেছিলেন: {আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবীদানকারী। অতঃপর ফিরে এল মুসলমানরা আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে, তাদের কিছুই অনিষ্ট হলো না। তারপর তারা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত হল।}
[সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৩- ১৭৪]

তিনি হিসাব সংরক্ষণকারী। আপন বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। ভরসাকারীদের জন্য যথেষ্ট। নিজ প্রজ্ঞার আলোকে এবং বান্দাদের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সব কর্ম সম্পর্কে অবগতি রেখে সে অনুযায়ী তাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ দ্বারা প্রতিদান দেন।

আল্লাহ তা'আলা বান্দার নির্ভুল হিসাব গ্রহণকারী। তাদের কর্মসমূহের হিসাবগ্রহণকারী। অতএব তাদের আপন কর্মের প্রতিদান দিবেন। ভালো করলে ভালো প্রতিদান, মন্দ করলে মন্দ। তাদের কর্মের প্রতিদান স্বরূপ যা প্রাপ্য তাই দিবেন। {এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন।}
[সূরা: আল-আন’আম, আয়াত: ৬২]

তিনি হিসাব সংরক্ষণকারী।

সৃষ্টিজগতের প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সর্ববিষয় নিখুঁতভাবে তাঁর আয়ত্বাধীন।

হে প্রতিপালক! হে সকলের জন্য যথেষ্ট সত্তা! আপনি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আমাদের সরল পথ দেখান। আমাদেরকে অধিকহারে কল্যাণ দান করুন হে দয়াময়। {অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট}
[ সূরা: আন-নিসা, আয়াত: ৬]

নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণকারী, তিনি সকলের জন্য যথেষ্ট।

তিনি সকলের জন্য যথেষ্ট। বান্দার প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য সকল বিষয়ে তিনি যথেষ্ট। যে তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁর উপর ভরসা করে এবং দ্বীন ও দুনিয়ার প্রয়োজনীয় বস্তু তাঁর কাছে চায় তিনি অবশ্যই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

আল্লাহ সুস্পষ্টকারী-প্রকাশক।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ সুস্পষ্টকারী প্রকাশক। {এবং তারা জানতে পারবে যে, অাল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী।}[সূরা: আন-নূর, আয়াত: ২৫]

হে মহান সুস্পষ্টকারী-প্রকাশক! আমাদের সম্মুখে সত্যের পথ সুস্পষ্ট করে দিন এবং মিথ্যার সাথে সত্যকে গুলিয়ে ফেলা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন হে প্রতিপালক।

আল্লাহ সত্য ও বস্তুর অন্তর্নিহিত রহস্য প্রকাশকারী। ফলে যাবতীয় সংশয় দূরীভূত হয়।

আল্লাহর একত্ব স্পষ্ট। নিঃসন্দেহে তাঁর কোন শরীক নেই।

আল্লাহ সুস্পষ্টকারী-প্রকাশক।

আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত যৌক্তিক ও শরয়ী প্রমাণ এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক প্রমাণ; সৃষ্টিকুলের প্রতি বদান্যতা তাঁর সুমহান অস্তিত্ব ও বিরাট কর্তৃত্বকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত করেছে।

আল্লাহ সুস্পষ্টকারী-প্রকাশক।

যিনি সুস্পষ্ট কিতাবসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করে তাঁর বান্দাদের সামনে সত্যের রাজপথকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ।}[সূরা: আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৫]

মহান আল্লাহ বান্দাদের সৌভাগ্যের পথ স্পষ্ট করে বাতলে দিয়েছেন। এ সফলতাকে জুড়ে দিয়েছেন তাঁর আনুগত্য ও একত্ববাদ স্বীকার করে নেয়ার পথে।

নিশ্চয় আল্লাহ স্পষ্ট প্রকাশক।


আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয় শক্তির অধিকারী, শক্তিশালী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয় শক্তির অধিকারী, শক্তিশালী। {নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।}[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৮৪]

{যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে।}[সূরা: আল-ক্বমার, আয়াত: ৫৫]

{আপনি বলুন: তিনিই শক্তিমান।}[সূরা: আল-আন’আম, আয়াত: ৬৫]

তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি পূর্ণ শক্তির অধিকারী। আপন শক্তিতে বিদ্যমান। সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। সেই শক্তিতেই তিনি এগুলো পরিচালনা করেন, দুরস্ত করেন, সুদৃঢ় করেন, জীবন দান করেন, মৃত্যু ঘটান। এবং প্রতিদানের জন্য বান্দাদের পুনরুত্থান ঘটাবেন। ভালো লোককে ভালো, মন্দকে মন্দ প্রতিদান দিবেন। যিনি এমন সত্তা যদি কোন কিছু করতে চান তাহলে 'কুন(হযে যাও)' বলেন, ফলে তা হয়ে যায়। আপন শক্তিবলেই তিনি অন্তরসমূহে পরির্তন ঘটান এবং যেদিকে চান সেদিকে ফিরান, যা ইচ্ছা করেন।

তিনি পূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয় শক্তির অধিকারী।

সুদৃঢ় শক্তির অধিকারী, আপন ইচ্ছা ও উপকরণের উপর পূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয় শক্তির মালিক।

তিনি শক্তিশালী।

পূর্ণশক্তির অধিকারী। তিনি জীবন দান করেন, মৃত্যু ঘটান, সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তাদের পরিচালনা করেন এবং সুদৃঢ় করেন।

তিনি শক্তিশালী।

তিনি পূনরুত্থিত করবেন, আপন শক্তিতে প্রতিদান দিবেন। আপন শক্তিবলেই তিনি অন্তরসমূহে ইচ্ছামাফিক পরিবর্তন ঘটান।

তিনি শক্তিশালী।

তিনি পরিপূর্ণ শক্তির অধিকারী। এই পূর্ণতায় অক্ষমতা বা অসম্পূর্ণতার লেশমাত্র নেই।

তিনি শক্তিশালী।

তিনি যেভাবে চান, যা দ্বারা চান আপন সৃষ্টিকুলকে পরিচালনা করেন। এটি তাঁর শক্তি ও আয়ত্বের পূর্ণতার প্রমাণ।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয় শক্তির অধিকারী, শক্তিশালী।


আল্লাহ একমাত্র চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ একমাত্র চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।}[সূরা: আল-হিজ্‌র, আয়াত: ২৩]

তিনি উত্তরাধিকারী।

যিনি জমীনে ও জমীনের উপরের সবকিছুর স্বত্ত্বাধিকারী ও মালিক। তিনি ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।

তিনি উত্তরাধিকারী।

যিনি সৃষ্টিকুল ধ্বংসের পরও নিজের পূর্ণাঙ্গ রাজত্ব নিয়ে বিদ্যমান থাকবেন। সুতরাং সকল রাজত্ব তাঁর রাজত্বের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। তিনি অত্যাচার ও সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক করেন।

তিনি উত্তরাধিকারী।

তিনি বান্দাকে তাঁর পথে ব্যয় করতে উৎসাহিত করেন। কেননা সম্পদ হলো সাময়ীক-ধারকরা বস্তুর ন্যয়, জীবনও অস্থায়ী। চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী আল্লাহর দিকেই সবকিছুকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

তিনি উত্তরাধিকারী।

তিনি বান্দাদেরকে তাঁর অকৃতজ্ঞতার ব্যাপারে সতর্ক করেন। মূলত নেয়ামতের উৎস তিনিই। আর পরিণতিতে তাঁর দিকেই ফিরতে হবে।

তিনি উত্তরাধিকারী।

জমিন ও জমিনের উপরের সবকিছুর তিনি উত্তরাধিকারী হবেন। বিদ্যমান সবকিছুই যথাসময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। সুতরাং তিনিই চূড়ান্ত ও প্রকৃত মালিকানার অধিকারী। {অবশেষে আমিই মালিক রয়েছি।}[সূরা: আল ক্বসাস, আয়াত: ৫৮।]

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ একমাত্র চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী


আল্লাহ একমাত্র সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ একমাত্র সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা

হে সর্বশ্রোতা! আমাদের প্রার্থনা শুনুন এবং ডাকে সাড়া দিন। আপনিই আমাদের যাবতীয় কর্ম, ত্রুটি বিচ্যুতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে সম্যক দৃষ্টি রাখেন।

আল্লাহ সর্বশ্রোতা।

ক্ষুদ্র বিকট সব ধরনের শব্দ তিনি শুনতে পান। কোন শব্দ শুনতে অপর শব্দ তাঁর জন্য অন্তরায় হয় না। এক প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে আরেক প্রার্থনাকারীকে তিনি ভুলে যান না।

তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আপনার কথা তিনি শোনেন। তাই নিজেকে সংযত রাখুন। আপনার দুআ তিনি শ্রবণ করেন। সুতরাং আপনার প্রতিপালকের কাছে অনুনয় বিনয় করুন। তিনি আপনার সব কর্মকাণ্ড অবলোকন করেন। তাঁর কাছে কোন বিষয় গোপন থাকে না। সুতরাং আপনি অনুগ্রহশীল হোন, আল্লাহ অনুগ্রহশীলদের ভালোবাসেন।

তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

ছোট থেকে ছোট, বড় থেকে বড় এবং রাতে বা দিনে লুকায়িত সব জিনিসই তিনি দেখতে পান।

তিনি সর্বশ্রোতা।

ভাষার বিভিন্নতা ও চাহিদার বিচিত্রতা সত্ত্বেও তিনি সব কথা শোনেন।

তিনি সর্বদ্রষ্টা।

নিকষ কালো রাতে নিঃশব্দে পাথরের উপর হাঁটতে থাকা কালো পিঁপড়ার পায়ের ক্ষীণতম আওয়াজ তিনি শুনতে পান। সপ্তম আসমানের উপর যা কিছু আছে তা যেমন দেখতে পান, তেমনি সপ্তম আসমানের নিচে যা কিছু আছে তাও তিনি দেখতে পান।

তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

কোন গোপন বস্তু তাঁর কাছে গোপন নয়। কেউই তাঁর দৃষ্টি থেকে আড়াল হয় না।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ একমাত্র সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।


আশ্-শাকুর,আশ্-শাকের,: আল্লাহ পুরস্কার দাতা-গুণগ্রাহী

আল্লাহ তায়ালা পুরস্কার দাতা এবং গুণগ্রাহী।
 
1871

আল্লাহ তা'আলা পুরস্কার দাতা এবং গুণগ্রাহী।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা পুরস্কার দাতা এবং গুণগ্রাহী।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা গুণগ্রাহী। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তবে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।}[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৫৮।]

{নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।}[সূরা: ফাতির, আয়াত: ৩৪]

মহান আল্লাহ সামান্য কাজেরও পুরস্কার দেন। ভুল বেশি হলেও ক্ষমা করেন। একনিষ্ঠভাবে আমলকারীদের সওয়াব তিনি বাড়িয়ে দেন।

আল্লাহ গুণগ্রাহী।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের দান করেন। প্রার্থনাকারীদেরকে অনুগ্রহ করেন। যে স্মরণ করে তিনি তাকে স্মরণ করেন। সুতরাং কৃতজ্ঞদের পুরস্কার মর্যাদা বৃদ্ধি, অকৃতজ্ঞদের জন্য লাঞ্চনা অবধারিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।}[সূরা: ইবরাহিম, আয়াত: ৭।]

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ পুরস্কারদাতা, গুণগ্রাহী।



Tags:

 

আল্লাহ প্রশংসিত।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ প্রশংসিত।

আল্লাহ তাঁর সত্তা, কর্ম, কথা ও সৃষ্টিকুলের প্রেক্ষিতে প্রশংসার্হ্য। তিনি তাঁর সত্তা, কর্ম, বক্তব্য ও সৃষ্টিতে এমন বড়ত্ব বা গৌরবময়তার অধিকারী, যার প্রেক্ষিতে তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সুতরাং এই মহাজগতে তিনি ছাড়া আর কেউ প্রশংসার উপযুক্ত নেই। তাই প্রশংসা ও পরিপূর্ণ স্তুতি একমাত্র তাঁরই জন্য নির্ধারিত।

আল্লাহ প্রশংসিত।

তিনি আপন সত্তা, নামসমূহ, গুণাবলী ও কর্মযজ্ঞে প্রশংসার উপযুক্ত। তাঁর রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, পূর্ণতম গুণাবলী, পূর্ণতর ও শ্রেষ্ঠতম কর্ম। কেননা তাঁর কর্ম দয়া ও ন্যায়ের মাঝে আবর্তনশীল। সুতরাং হে প্রশংসিত! আপনি আমাদের প্রতি আপনার কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আপনার বড়ত্ব চিনিয়েছেন এবং আমাদের মাঝে আপনার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। এজন্য সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনার জন্য নিবেদিত।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, প্রশংসিত।


আল্লাহ গৌরবময়, সর্বাধিক বড়ত্বের অধিকারী, সর্বোচ্চ সম্মানিত।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ গৌরবময়, সর্বাধিক বড়ত্বের অধিকারী, সর্বোচ্চ সম্মানিত।

নিশ্চয়ই তিনি গৌরব, বড়ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। যিনি বৃহত্তর, মহিমান্বিত, মহত্তম ও উচ্চতর। আল্লাহর খাঁটি বান্দাদের অন্তরে রয়েছে তাঁর মহত্ত্ব ও বড়ত্ব। তাদের অন্তরসমূহে তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্বে পরিপূর্ণ। তারা তাঁর সামনে বিনীত হয়, তাঁর বড়ত্বের সামনে অবনত হয়।

হে মহান সত্তা আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আপনি কতই না মহান। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।}[সূরা: আল ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৯৬]

হে সর্বাধিক বড়ত্বের অধিকারী, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান এবং সর্বোচ্চ মহত্ব ও মহানুভবতার অধিকারী সত্তা। আমরা আপনার যথাযথ প্রশংসা করা ও আপনার মহত্বের যথার্থ গুণকীর্তন করতে অক্ষম।

তাঁর পবিত্র সুউচ্চ সত্তায় তিনি মহিয়ান। তাঁর নাম ও গুণসমূহে তিনি গরিয়ান। {কিছুই তাঁর মত নয়।}[সূরা: আশ শুরা, আয়াত: ১১]

তিনি মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। যে তাঁর গুণ নিয়ে তাঁর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় তিনি তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা হাদীসে কুদসীতে বলেন: «অহংকার ও বড়ত্ব আমার চাদর। শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব আমার পরিধেয়। যে এ দুটির যে কোন একটির সাথে টানাটানি করে আমি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করি।» (-আহমাদ।)

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ গৌরবময়, সর্বাধিক বড়ত্বের অধিকারী, সর্বোচ্চ সম্মানিত।


আল্লাহ মহান, উচ্চতর; মহামহিম।

নিশ্চয় তিনি আল্লাহ মহান, উচ্চতর; মহামহিম।

মহান, উচ্চতর; মহামহিম।

তিনি সর্বদিক দিয়ে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর সত্তা সুউচ্চ, তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ, তাঁর গুণাবলী সুমহান, তাঁর প্রতাপ সবকিছুর ঊর্ধে। {তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।}
[সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৫]

মহান আরশে তিনি সমাসীন। শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব, মহত্ব, সৌন্দর্য ও পরমপূর্ণতা ইত্যাদি সকল গুণে তিনি গুণান্বিত। এসব গুণাবলীর উৎকর্ষতার শেষ সীমানা হলেন স্বয়ং আল্লাহ।

তিনি সুমহান, উচ্চতর।

তিনি সকল অসঙ্গত বিশেষণ থেকে ঊর্ধ্বে এবং সকল অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাঁর সত্তা, গুণাবলী ও ক্ষমতা সমুন্নত।

নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান, উচ্চতর; মহামহিম।


আল্লাহ সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী।

নিশ্চয় আল্লাহ সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী।

আল্লাহ সংকোচনকারী।

তিনি কারো কারো রিযিক সংকীর্ণ করে তাদের পরীক্ষা করেন। কতক লোককে রিযিক থেকে বঞ্চিত করে পরাভূত করেন। কতক লোককে রিযিকের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদেরকে মর্যাদায় ভূষিত করেন।

আল্লাহ সম্প্রসারণকারী।

তিনি রিযিক সম্প্রসারিত করেন। আত্মিক জ্ঞান বৃদ্ধি করেন। তবে এই সংকোচন ও সম্প্রসারণ তাঁর হেকমত, রহমত, দয়া, অনুগ্রহের চাহিদা বিশেষ।

নিশ্চয় আল্লাহ সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী।


আল-মুতী, আল-মানিই: আল্লাহ দাতা ও প্রতিরোধকারী

আল্লাহ তা'আলা একাধারে দাতা ও প্রতিরোধকারী।
 
2517

আল্লাহ তা'আলা একাধারে দাতা ও প্রতিরোধকারী।

নিশ্চয় আল্লাহ দাতা, প্রতিরোধকারী।

আল্লাহ দাতা ও প্রতিরোধকারী।

তিনি দিতে চাইলে বাধাদানকারী কেউ নেই। তিনি না দিতে চাইলে দেয়ার কেউ নেই। সমস্ত কল্যাণ ও উপকার তাঁর কাছেই চাওয়া হয়। তিনিই সব প্রত্যাশার কেন্দ্র। তিনি নিজ প্রজ্ঞা অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন।

হে সম্প্রসারণকারী! আপনার রহমত আমাদের জন্য সম্প্রসারিত করুন। আপনি আমাদেরকে আপনার নেয়ামত দান করুন। অকল্যাণ থেকে আমাদের দূরে রাখুন। অকল্যাণ ও ক্ষতি প্রতিহত করুন।

নিশ্চয় আল্লাহ দাতা, প্রতিরোধকারী।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমন তিনি নিজের গুনকীর্তন করেছেন। সৃষ্টির জন্য সাব্যস্ত হওয়া গুণ থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

-ইমাম শাফেয়ী।



Tags: