ইসলামে ইখলাসের গুরুত্ব 1

ইসলামে ইখলাসের গুরুত্ব 1

ইখলাসের অর্থ:

যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পারে সে তাঁকে এবং তাঁর বান্দাকে ভালবাসে এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হয়।

ইখলাস হলো একনিষ্ট ব্যক্তির ঢাল, মুমিনের রূহ এবং বান্দা ও তার রবের মাঝে গোপন সম্পর্ক। ইহা অসওয়াসা এবং অহংকার ধ্বংস করে। ইখলাস মানে হচ্ছে: আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে ইবাদাত করা। এক্ষেত্রে অন্য কারো প্রতি ভ্রূক্ষেপ না থাকা। ইবাদাতের ক্ষেত্রে আপনার অন্তর অন্য কাউকে কামনা করবে না, আপনি মানুষের কাছে প্রশংসা বা খ্যাতি আশা করবেন না এবং মহান স্রষ্টার পক্ষ হতেই প্রতিদানের অপেক্ষা করবেন, এটাই হলো ইখলাস।

ইখলাস হল আমলের পূর্ণতা ও সৌন্দর্য। এর মূল্য অতুলনীয়। ইহা আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি বান্দাকে একনিষ্ঠ বানিয়ে দেয়। মহান স্রষ্টার প্রতি বান্দার অন্তরে পূর্ণ মনোযোগ থাকার কারণে অন্য কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কথা তার মাথায় আসে না। তার মনে মননে কেবলই আল্লাহ তা'আলার সন্তষ্টি অর্জনের ব্যাকুলতা থাকে, আল্লাহ তা'আলার কাছেই প্রতিদান আশা করে এবং এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তা'আলাই তার প্রতিদান দেন। আল্লাহ ব্যতীত অন্যকিছু তার কাছে ধূলিকণার মর্যাদাও রাখে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, সেই উদ্দেশ্যই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য।» (-বোখারী।)

আইয়ূব সাখতিয়ানি সারা রাত জাগ্রত থাকতেন এবং তা গোপন রাখতেন। যখন ভোর হতো তখন তিনি সজোরে হাঁক দিতেন, যেন তিনি এইমাত্র জাগ্রত হলেন।

ইখলাসের স্তর:

দ্বীনের মাঝে ইখলাসের স্থান অনেক উঁচু। এর সমকক্ষ অন্য কিছু নেই। আমল ইখলাস ব্যতীত কবুল হয় না। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে ইখলাসের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে}
[সূরা: আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {আপনি বলুন: আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল।}
[সূরা: আল আন’আম, আয়াত: ১৬২- ১৬৩]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ?}
[সূরা: আল মুল্‌ক, আয়াত: ২]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করুন। জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত।}
[সূরা: আয যুমার, আয়াত: ২- ৩]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।}
[ সূরা: আল কাহাফ, আয়াত: ১১০।]


ইখলাসের অধিকারী হওয়ার উপায় কি?

প্রথমত: আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসকে নিজের মধ্যে যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করুন। জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত।}[সূরা: আয যুমার, আয়াত: ২- ৩]

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে}
[সূরা: আল বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]

দ্বিতীয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণ অনুসরণ করা। তাঁর আদিষ্ট বিষয়ে আনুগত্য করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা। আর তিনি যেসব বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন সেগুলোকে সত্যায়ন করা। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: {হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।}[সূরা: আন নিসা, আয়াত: ৫৯।]

মানুষের ভিতর যদি বাহির থেকে ভিন্ন হয় তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়ত: যদি আপনি মুখলিস হতে চান তাহলে নেক আমলে অভ্যস্ত হউন, এবং সর্বদা ঐ সাত শ্রেণীর লোকের কথা স্মরণ করুন যাদের তিনি এমন দিনে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না। «(তাদের মধ্যে একজন হলেন) এমন ব্যক্তি যে সদকা দেয় এবং তা গোপন রাখে।» (-বোখারী।)

এই হাদীসটিও স্মরণে রাখতে হবে: «নিশ্চয় আমালের ভিত্তি হচ্ছে নিয়ত।» (-বোখারী।)

চতুর্থত: আপনার অন্তরকে আল্লাহর প্রশংসার প্রতি মনোযোগী করতে হবে এবং মানুষের হাতে যা রয়েছে, তার অসারতার কথা কল্পনা করা। সর্বদা সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা। মুখলিস ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে কাতর হয় না, কোন নারীর প্রতি আকর্ষণে কাবু হয় না। সে কেবল আল্লাহর করুণার প্রত্যাশী থাকে।

পঞ্চমত: আপনার কর্তব্য হল নিজেকে আপন রবের সামনে উপস্থিত জ্ঞান করবে এবং তাঁর দুয়ারে নিজের দীনতা হীনতা সহকারে বিনয়ে অবনত হবে। আর এই মর্মে দু'আ করতে থাকবে: হে আল্লাহ! আমাকে ইখলাসের দৌলত দান করুন। আমাকে রিয়া ও লোক দেখানোর মানসিকতা হতে পবিত্র করুন এবং আমার অতীত গুণাহ ও পাপ হতে তওবা কবুল করুন।

ইখলাস হলো, আপনার ইবাদাতের সাক্ষি হিসেবে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে গ্রহণ না করা এবং তিনি ছাড়া অন্য কারো প্রতিদান কামনা না করা।

ষষ্ঠত: লোক দেখানোর মানসিকতা বর্জন করা ও এ ব্যপারে সাবধান থাকা। মানুষ যখন লোক মুখে স্বীকৃতি ও লোকিকতার পথে পা বাড়ায় বা লোকিকতার কোন উপায়কে স্বাগতম জানায় তখন সে ইখলাসের পথ হতে দূরে সরে যায়। যেমন কিছু কিছু লোক নিজের প্রশংসা মূলক বিষয় আলোচনা করে। অথবা কারো আলোচনায় তৃপ্তিবোধ করে কিংবা তার কোন ভালকাজের কথা বলে বেড়ায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

{যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না। এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।}[সূরা: হুদ, আয়াত: ১৫- ১৬ ।]

রিয়া বা লৌকিকতা হল ছোট শিরক। আর লোকিকতা বা এই ছোট শিরকের অন্যতম কুফল যেহেতু আমল কবুল না হওয়া, সেহেতু এই একটি কুফলই এই গর্হিত কাজটি জঘণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। বাহ্যত কোন কাজ অনেক ভাল মনে হলেও লৌকিকতা বা রিয়ার কারণে তা মূল্যহীন। এমন আমল ব্যক্তির মুখে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

সপ্তমত: মুখলিসদের সংস্পর্শে থাকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: «মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকে।»
(-তিরমিযী।)

ইখলাস এবং লোকমুখে প্রশংসার আশা কখনো অন্তরে একত্রে থাকতে পারে না। যেমনটা আগুন ও পানি একত্রে অবস্থান নিতে পারে না।

অষ্টম: ইবাদাতকে গোপন করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম।}
[সূরা: আল বাক্বারাহ, আয়াত: ২৭১]

নবম: অন্তরের হিসাব (মুহাসাবা) সবচেয়ে কঠিন এবং সূক্ষ্ম হয়ে থাকে। প্রতিটি মুহূর্তে আত্ম জিজ্ঞাসা করা উচিত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:

{যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।} [সূরা: আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯।]

আল্লাহর এই আয়াতের নিন্মোক্ত শব্দটি নিয়ে একটু ভাবুন: 'আমার পথে'!! অর্থাৎ সাধনা হতে হবে আল্লাহর পথে।

দশম: আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করা, তাঁর প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং একাজগুলো বারবার করতে থাকা। মুখাপেক্ষী বান্দা যখন তার মুনীবের দুয়ারে পড়ে থাকে তখন তিনি তার উপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন এবং তার প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য পূরণ করেন। তাকে তাঁর স্থায়ী বন্ধুত্ব দান করেন। সুতরাং অনবরত দোয়া করতে হবে।


ইখলাসের ফলাফল:

১- আমল কবুল হওয়া।

এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইখলাস আমল কবুলের পূ্র্বশর্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: «আল্লাহ তা'আলা কেবল একনিষ্ঠভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা ইবাদাতই কবুল করেন।» (-নাসায়ী।)

২- আল্লাহর সাহায্য এবং কতৃত্ব লাভ:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: «আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতের দুর্বলদেরকে তাদের দোয়া, সালাত ও ইখলাসের মাধ্যমে সাহায্য করেন।» (-নাসায়ী।)

৩- অন্তরকে ব্যাধি হতে নিরাপদ রাখে:

অর্থাৎ অন্তরের ব্যাধি যেমন হিংসা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা এবং খিয়ানত ইত্যাদি হতে নিরাপদ রাখে। বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তিনটি গুণের বেলায় মুসলমানের হৃদয় কখনো নাফরমানী করে না। এক. যেকোন আমল কেবলই আল্লাহর জন্য করা, দুই. মুসলিম শাসকের কল্যান কামনা, তিন. মুসলিমদের দলের সাথে জুড়ে থাকা।» (-বোখারী।)

ইবনে ওমর রা. বলেন, যদি জানতাম যে আল্লাহ আমার একটি সেজদা এবং এক দিরহাম সাদকা কবুল করেছেন তাহলে মৃত্যু ব্যতীত অধিক প্রিয় আর কোন জিনিস আমার নিকট থাকতো না। আপনি জানেন কি, আল্লাহ কার কাছ থেকে কবুল করেন? {আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।}
[সুরা: আল মায়েদা, আয়াত: ২৭]

৪- দুনিয়ার কাজকেও নেক আমলে পরিণত করে:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তোমাদের যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও সদকা রয়েছে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি তার কামনা পূর্ণ করে তবেও কি নেকী লাভ করবে? তিনি বললেন, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তার যৌনাঙ্গ হারাম ক্ষেত্রে ব্যবহার করত তবে কি সে গুনাহগার হতো না? তদ্রূপ যখন সে হালাল ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে তখন সে নেকী লাভ করবে।»
(-মুসলিম।)

৫- শয়তানী ধ্যান-ধারণা এবং খারাপ চিন্তা ও অসওয়াসা দূর করে দেয়:

শয়তানকে যখন আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়, তখন শয়তানের বক্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন: {শয়তান বলল: হে আমার পালনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সেন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব। আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত।}[সূরা: আল-হিজর, আয়াত: ৩৯- ৪০।]

৬- ইখলাস দুঃখ ও কষ্ট লাঘব করে দেয়: তার উদাহরণ সেই তিন ব্যক্তির ঘটনায় পাওয়া যায়। যারা রাত্রি যাপনের জন্য অথবা বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য গুহায় আশ্রয় নিয়ে পরে বিপদে পড়েছিলেন, আল্লাহ তাদের ইখলাসের কারণে বিপদমুক্ত করেছিলেন। মূল হাদিসটি বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

অনেকেই দৈহিকভাবে দুনিয়া ত্যাগ করেন অথচ তার অন্তরে দুনিয়া মিশে আছে। আবার অনেকে বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার সাথে মিশে আছেন, কিন্তু তার অন্তর দুনিয়া বিমুখী। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তি হতে উত্তম।

৭- ফিতনার শংকা হতে মুক্তি এবং নিরাপত্তা দান: যেমন ইউসুফ আ:-এর ঘটনা। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন: {নিশ্চয় মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয় পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিভাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নিলজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন।}[সূরা: ইউসুফ, আয়াত: ২৪]

৮- সাওয়াব ও প্রতিদান সম্পর্কে নিশ্চয়তা লাভ হয়, যদিও আমলের পরিমাণ কম হোক না কেন: আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: {আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।}[সূরা: আত-তাওবা, আয়াত: ৯২]

আমাদের নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এব্যাপারে বলেছেন:

যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে শাহাদাত প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। যদিও তার মৃত্যু হয় বিছানায়। (মুসলিম।)

৯- ইখলাস জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।}[সূরা: আস-সাফফাত, আয়াত: ৩৯।]

আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা বান্দা। তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি। ফল-মূল এবং তারা সম্মানিত। নেয়ামতের উদ্যানসমূহ। মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন। তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র। সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু। তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।}[সূরা: আস-সাফফাত, আয়াত: ৪০-৪৯]

ইহা ইখলাসের অন্যতম বড় সুফলের একটি।

অনেক স্বল্প আমলও নিয়তের বিশুদ্ধতার কারণে বৃহৎ হয়ে যায়, আবার অনেক বৃহৎ আমলও নিয়তের ভেঁজালের কারণে তুচ্ছ হয়ে যায়।

-ইবনে মুবারক।

আপনার নেক আমলকে গোপন করুন যেমন আপনি আপনার অন্যায়সমূহকে গোপন করে থাকেন।

-আবু হাজেম আল-মাদীনী।