আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছু জ্ঞাতব্য ও লক্ষণীয় বিষয়

আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছু জ্ঞাতব্য ও লক্ষণীয় বিষয়

আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছু জ্ঞাতব্য ও লক্ষণীয় বিষয়:

আল্লাহ তা'আলা বলেন: {কোন কিছুই তাঁর মত নয়। এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [সূরা: আশ-শুরা, আয়াত: ১১]

১- নিশ্চয় আল্লাহর সমস্ত নামই অতীব সুন্দর। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম।}[সূরা: আরাফ, আয়াত: ১৮০।]

আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাঁর সমুন্নত সত্তার পরিচয় দান করেছেন, যেন আমরা তাঁর ইবাদাত করি, সাথে সাথে তাঁকে ভয় করি, ভালোবাসি ও তাঁর নিকট মুক্তি প্রার্থনা করি।

২- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত হবে দুটি সূত্রে, তৃতীয় কোন সূত্রের মাধ্যমে নয়। তাহলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাত। সুতরাং এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে তাঁর নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত হবে না। সুতরাং আমরা আল্লাহর জন্য সেসব বিষয়সমূহ সাব্যস্ত করবো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাব্যস্ত করেছেন, এবং তাহারা যা নিষিদ্ধ করেছেন আমরাও তা নিষিদ্ধ জ্ঞান করবো। আর যে বিষয়ে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত কিংবা খন্ডন কোনটিই বর্ণিত হয়নি এরকম শব্দের ব্যপারে নিরবতা অবলম্বন করবো। এমন বিষয়ে শব্দগতভাবে কোন কিছু গ্রহণও হবে না বর্জনও হবে না। তবে অর্থের ক্ষেত্রে তা বিশ্লেষণযোগ্য। অতএব আল্লাহর সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন অর্থ হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি এমন কোন অর্থ হয় যা আল্লাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তাহলে তা প্রত্যাখান করা ওয়াজিব।

৩- আল্লাহ তা'আলার গুণাবলীর ব্যাপারে মন্তব্য করা তাঁর সত্তার ব্যাপারে মন্তব্য করার নামান্তর। সুতরাং আমরা আল্লাহ তা'আলার সত্তার প্রকৃত অবস্থা যেমন সবিস্তারিত জানি না, তাঁর সুন্দর গুণাবলীর বিস্তারিত ব্যখ্যাও ও ধরণও আমাদের অজানা। তাই এ সকল বিষয় আমরা কোন রকম পরিবর্তন পরিবর্ধন ও দৃষ্টান্ত ও উপমা স্থাপন ছাড়াই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবো ও মেনে নেব।

৪- আল্লাহর গুণাবলী ও নামসমূহের অনেক বাস্তবিক অর্থ রয়েছে, রূপক অর্থ নয়। আর সেসব গুনবাচক নাম আল্লাহর সত্তা ও তাঁর সত্তার মধ্যে থাকা অনাদী গুনাবলীকে প্রমাণ করে। যেমন: “আল-কাদির” “আল-আলিম”“আল-হাকীম” “আল-সামি” “আল-বাছির”। নিশ্চয় এসব মহিমান্বিত নামসমূহ আল্লাহ তা'আলার পবিত্র সত্তার জন্য উপরোক্ত গুন-বৈশিষ্ট্যকে প্রমাণ করে।

৫- নিশ্চয় সমস্ত ত্রুটি থেকে আল্লাহর মুক্ত থাকার বিষয়টি চিরন্তন। সবধরণের ত্রুটি থেকে আল্লাহর মুক্ত থাকার বিষয়টি সংক্ষিপ্ত ও মৌলিকভাবে বিশ্বাস করতে হবে আর ইতিবাচক গুনসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত ব্যখ্যা সাপেক্ষে বিশ্বাস করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:{কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।}
[সূরা: আশ-শুরা, আয়াত: ১১]

৬- আল্লাহর নামসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা: আল্লাহর গুনবাচক নামের প্রতি বিশ্বাস যেমন জরুরী, তাঁর নামের সূত্রমূলকে বিশ্বাস করাও তেমনই জরুরী। যেমন আল্লাহর নাম 'রহীম' প্রমাণ করে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার মধ্যে 'রহমত' গুণ রয়েছে। অতএব তিনি তার রহমতের বারি দ্বারা তার বান্দাদেরকে সিঞ্চিত করেন।

আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বিষয় লক্ষণীয়। তা হচ্ছে:

১- নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে: «আমি প্রার্থনা করছি আপনার পবিত্র ঐ সকল নাম দ্বারা যা আপনি নিজের জন্য নির্বাচন করেছেন, অথবা আপনার কোন সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা যা অদৃশ্যের জ্ঞান হিসাবে নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন।» (-আহমদ।)

২- নিশ্চয় আল্লাহর নাম সমূহের কিছু আছে এমন যে, সেগুলোকে আমরা কেবল আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করবো, সেগুলো হলো ঐসব নাম, যা তিনি শুধুমাত্র নিজের জন্য নির্ধারন করেছেন এবং তার মধ্যে অন্য কাউকে অংশীদার করেননি। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারও বেলায় তা প্রয়োগ করাও জায়েয হবে না। যেমন “আল্লাহ” “আর-রহমান” আর তাঁর কিছু নাম আছে যা অন্যদের জন্য ব্যবহার করা যায়। যদিও আল্লাহর নাম ও গুণাবলীসমূহ পরিপূর্ণ ও পূর্ণতর। অন্যদের বেলায় ব্যবহার হলে সে অর্থ কোনভাবেই প্রকাশ করবে না।

৩- আল্লাহর নামসমূহই তাঁর গুণাবলীর উৎস। সুতরাং প্রত্যেক নাম সিফাতকে সাব্যস্ত করে। তবে সিফাত থেকে কোন নাম উৎসারিত হয় না। যেমন আমরা বলে থাকি আল্লাহ তা'আলা ক্রোধান্বিত হন। এই গুনটি থেকে কোন নাম আমরা সৃষ্টি ও আবিস্কার করে বলি না যে তিনি 'গাজুব' বা মহাক্রোধের অধিকারী।



Tags: